মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫

ওং, যোনিপদ্মে ওম

ওং, যোনিপদ্মে ওম


১।

পুরুষেরো দাহ্য অঙ্গ থেকে 

গো মহিলা, তোমার ফল্গুরই মতো

ইলশেগুঁড়ি 

বৃষ্টিপাত হয়। পুরুষের শূন্যতার মতো

তারো এক গন্ধ থাকে।

তুমি সেই গন্ধ কি পাও? গো মহিলা, 

তোমার দেহের কথা

ভাবিনা অথচ 

দাহ্য তোমার দেহ

নিষিদ্ধ বন্য-ফুল, প্রত্যঙ্গ-শিখরে ও

শিকড়ে, নাভিতে

ফোটে। ভেজায়

আমাকে। তোমার জিহ্বায় 

তুমি

স্বাদটুকু পাও কি, 

মহিলা? 

২।

মহিলা, তোমার কোনো 

নাম নেই। শুধুই মহিলা

তুমি। চোখের ইঙ্গিত, চুল,

ঠোঁট, গলা, নাভি, যোনি-সহ

শুধুই মহিলা তুমি। নাম 

দিয়ে যারা 

তোমাকে বন্দী করে, করতে চায়, তারা

তোমার মহিমা তারা 

কিছুই জানেনা। অভ্র-খনি লোভে যারা 

গোলাপ ইত্যাদি হাতে

নিবেদন করে “প্রেম”--

সে সব মুর্খেরা “মহিলা” এ মানচিত্র

শেখেনি এখনো । পক্ষান্তরে আমি

আমার পুরুষ গন্ধ, অন্ডাশয়, লিঙ্গ ইত্যাদি

নিবেদন করি দেখো, হাতে নিয়ে

সুগন্ধী ও ডটেট কন্ডোম।

মহিলা, রমণ শেষে

হিসি কর তুমি। আমি দেখি

তৃপ্ত যোনি থেকে 

ব্যর্থ শুক্রানু গুলি 

ঝরে পড়ে

বাদলের মতো।

 ৩।

যোনি কোনো অভ্র-খনি

নয়। করণিক-প্রেমিক

জানেনা। ফুঁসে ওঠা

লিঙ্গ কোনো সিঁড়ি নয়

ব্যাবিলন কিংবা অন্য

কোনো উদ্যানের। সাবিত্রী-প্রেয়সী

জানেনা। তুমি জানো। তুমি

তাই

শুধুই মহিলা।


৪।

গো মহিলা, তুমি কি কলসি না'কি

কলসির ফুটো? কি করে রহস্য এত

ধরে রাখো 

পোড়া-মাটি শরীরে তোমার? পোড়া-মাটি 

শরীরে তোমারো

নয়টিই দরজা? তাহলে

একটি ফুটোই কেন অধিকার করে রাখে

মনোযোগ 

সকল কীটের? পতঙ্গের মতো লিঙ্গ

পুড়ে যেতে চায় কেন 

শুধু ওই একটিই

কূপীর চিতা তে? গো মহিলা, 

আশ্চর্য কলস, কি করে ধারণ করো

এতো ঝড়, এতো জল

—- জন্মাবধি — রাতে?


৫।

চমকে উঠি উল্কিটি দেখে, গো মহিলা, 

যোনি নয়, যোনি-কিনারের 

উল্কি দেখে চিনতে পারি তুমি সেই বোন, যাকে

১৯৭৭ সালে হারিয়ে ছিলাম ভিড়ে, “এন্টনী,

অমর, আকবর” —- “বই’’ দেখে

ফিরবার পথে। সেই থেকে 

জন্ডিস-হলুদ, বনে বনে শুধু নয় –

বাজারে বন্দরে। সেই থেকে

সুখ নেই। সুখ নেই 

রমণে, সঙ্গমে। সেই থেকে

প্রত্যেকটি যোনি 

আমূল তল্লাস করছি

উল্কির সূত্র ধরে

ফিরে পেতে, চিনতে 

তোমাকে।


৬।


তুমি আমার রথের মেলায় হারিয়ে যাওয়া বোন।

পঞ্জরে হও ভ্রমর তুমি, মগজ-গুহায় ঘুণ।

তুমি আমার গায়ত্রী-জপ অকালে কৈশোরে –

শীঘ্র পতন, তুমিই আবার, শরীর পোড়া জ্বরে।

আমি তোমার দাসানুদাস, তুমি আমার দাসী —-

প্রেমপ্রীতি নয়, পরম-অর্থ  চরম সর্বনাশ-ই।



তুমি আমার রথের মেলায় হারিয়ে পাওয়া বোন।

যাপন রেখায় আমি তোমার সর্বনাশের ভ্রূন।

লগ্ন শুভ হয় আমাদের অশ্লেষা আর মঘায় -

ঋতুর রক্তে ধৌত ন্যাতা, আমার শ্বাসে শুকায়।

এই কথাটি কেউ কি জানে,  ঝঞ্ঝার সন্ধ্যায় –---

একই সাপে কামড় দিলো তোমার আমার গা'য়।


তুমিই হও রথের মেলা, তুমিই রথের রশি।

যক্ষ আমি, তুমি আমার রক্তের রাক্ষসী।। 



৭।

একটি ফুল

ফোটার ভুল

এখনো যদি করে

তাহলে তা

 এই মহিলাই, 

মহিলাটিরই

তরে।


৮।

কথা ছিল ধারাস্নান হবে

শীৎকারে, কখনো নীরবে 

পরাগ ঝরবে রক্ত

গোলাপের থেকে। কথা ছিল

পুরুষ কেশরে

সলাজ পাঁপড়ি লেগে যাবে। কথা ছিল 

স্নান হবে, স্নানঘর হাট করে খুলে

সব নদী, সব ঝর্না, সব খাল, সব বৃষ্টিপাত

নগ্ন ডেকে নেবে। অথচ অনেক কিছু

হয়ে গেলো তবু

স্নানটি হলোনা, তাই

মহিলার স্নান অন্ধ-কূপে

পুরুষটি আয়না হলো

স্নানের স্বপ্ন দেখে দেখে।


৯।

যে তাঁবু দিয়ে ঢাকো গুহা ও গুহামুখ,

যে তাঁবু ঋতুকালে রক্তে তৃপ্ত,

যে তাঁবু স্বেচ্ছায় প্রায়শ উড়ে যায়

যখন আসে ঝড়, বাতাসও মত্ত –

যে তাঁবু ঢেকে রাখে ভূমা ও ওমকার

যে তাঁবু একা জানে সকল সত্য —-

সে তাঁবু নিজহাতে যখনই খুলে দিয়ে

আঙ্গুলে ভেঙ্গে ফেলো সকল শর্ত —-

তখনই চাঁদ লাগে চাঁদের গা'য়ে আর

আমারো হেউঢেউ প্রলাপে মত্ত।

তাঁবুটি সহসাই নিশান, ইশারায় —-

সন্ধি প্রস্তাবে শাদা, উড়ন্ত।

তবু সে অন্দরে রক্ত ভালবেসে

জানু ও জংঘাতে দানবী ছন্দ

তুলে সে ওমকার যখন যায় লিখে —-

তাঁবুতে ঘুম যাই, আমি হে, অন্ধ।।


১০।

এ বছর শীত এলে, মেলা থেকে কিনে আনবো

একটি লাটাই আর 

গুলিসূতো —- অনেক অনেক। কিন্তু কোনো

ঘুড়ি আনবোনা। ঘুড়ির বদলে 

অন্তর্বাস গুলি তুমি

আকাশে উড়িয়ে দেবে। ব্যবহৃত 

অন্তর্বাস গুলি সিক্ততা ও একটি-দুটি অন্যমনা যৌন কেশর

সঙ্গে নিয়ে উড়ে আসবে 

পার হয়ে মানচিত্র, কাঁটাতার, ভিসা, পাসপোর্ট। আর আমি

সে বছর শীতে 

মেলা থেকে কিনে আনা দুরন্ত ঈগল

পাঠিয়ে নামিয়ে আনবো যোনি-ঘ্রাণ, 

সিক্ততা ও একটি-দুটি 

যৌন কেশর সহ 

ব্যবহৃত অন্তর্বাস গুলি। স্পর্শ করলে জানা যাবে

শীতের আকাশপথ ধরে

উড়ে এসে তাদের গায়েও 

লেগে গেছে

আকাশের নীলরং পরাগ কেশর।



১১।


তোমায় নিয়ে কোথায় যাওয়া?

ঠিক জানিনা, কেউ জানেনা।

যাওয়া আসার সব পথই ভুল,

সব ঠিকানাই গড় ঠিকানা। 

নর্তকী নও, নও প্রেয়সী, 

কন্যা, জায়া, বেশ্যাও না,

উর্বশীরাও, রবিকবির

গ্রহে এখন আর থাকে না।

#

তাই তোমাকে আনখযোনি 

জানার পরেও ঠিক চিনিনা।

মুহুর্তে হও স্তনদায়িনী —-

পলক পরেই হৃদয়হীনা।

অসুখ তুমি আর কারো নও,

অসুখ তুমি নিজেই তোমার,

শব্দ-জোনাক, হায় কতোদূর,

মুছতে পারে এই হাহাকার? 



২০২৫


১২।

চাবুক? না 

শরীর? যা'ই হোক তুই 

ফালাফালা 

ছিঁড়ে ফ্যাল আমাকে, যেভাবে

বাতাস, বৃষ্টি-রাতে

ফালাফালা ছেঁড়ে 

কলাপাতা।  আর 

কলাপাতা প্রতিরোধে নয়,

প্রতীক্ষায় পেতে দেয় 

পেট, পিঠ, গলা, বুক, নাভি —-

আমাকেও আমূল ছিঁড়েফেঁড়ে

বার হয়ে আয় তুই—- 

রমণী বাতাপি।


২০/০১/২০২৫


১৩।

স্বর্গের 

বারান্দা থাকেনা। স্বর্গের 

উঠানে পৌঁছাতে 

পেরিয়ে আসতে হয় 

তলপেট, নাভি আর 

নিষিদ্ধ বা 

প্রসিদ্ধ ব-দ্বীপ। প্রতি পদে 

কাঁটাতার,

দুর্গ, পরিখা হেন

বিপত্তি, তথাপি

একটি করে মাইল পাথর

সরীসৃপের মতো 

ঘষটে ঘষটে পেরোনোর 

অভিপ্রায়, জেদ –

স্বেদ হয়ে 

ভেজায় উঠান, দরজা 

খুলে যায় 

স্বর্গের, আসমানের

সপ্তম ফটক হাট করে খুলে 

উড়ে যায় 

সমস্ত সংজ্ঞা সহ

পাপ শব্দ আর স্বর্গের নিকানো উঠানে

পড়ে থাকে 

শ্বেতশুভ্র পারাবত হেন

সূতী ব্রেসিয়ার আর

জবাকুসুমের মতো লাল

দিব্য নাইলন পেন্টি। “কার”

এই প্রশ্নটি

অন্তিমে

আমূল ধূলার।


–---

২৪।০১।২৫


১৪।

চল্লিশ-ডাকাতে আগলানো প্রত্যেকটি গুহার দরজাই 

খোলার পবিত্র শ্লোক জানে কোনো আলিবাবা 

এবং কাশেমও। যদিও প্রত্যেকটি গুহা

স্থানাঙ্কে ও চেহারাছবিতে কিছু কিছু ভিন্ন তথাপি

অন্দর-সামগ্রী হাটকে —- পকেটমার,পন্ডিত, ঠগ

এবং সাধকও —- জানিয়েছে একই ভূমা, একই

ব্রহ্ম, একই ওমকার থাকে অলীগলী

এবং নলীতে। আলিবাবা আর কাশেমেও

তফাৎ অন্তিমে এই, একই লোভে গুহাতে ঢুকলেও

আলিবাবা বার হতে জানে, কাশেম চল্লিশ টুকরো,

ঝুলে থাকে গুহা-দেওয়ালেই। আর আমি, গো পাঠিকা,

কাশেমের দলেরই যে, সেকথা প্রকাশ করে

বলার আর বাকি আছে নাকি?


১৫।

“ দেখেছো তো

বন্ধ ছিল। এই দেখো –

 ‘খুল যা সিম-সিম’ —- 

 খুলে গেলো।  আসলে তোমাকে …

নাহ.. তোমার “ও” কেই দেখে

আহ্লাদে এই খুলে যাওয়া । এতোক্ষণ তো 

চুপচাপই ছিল, বেশ সহ্য ক'রে ছিল

কামড়াকামড়ি 

অন্দরের পোকামাকড়ের। এখন তো মনেহচ্ছে

আবার জ্বালাবে । তাই

দেখো, বন্ধ ক’রে দিয়েছি আঙ্গুলে। এখুনি খুলতে হবে? ওক্কে,কোই বাত নেহি —-

খোল গুহা —- খুল যা সিমসিম —-

এই দেখো এসে গেছে 

সুবোধ বালিকা” । —- এ’ও খেলা, খেল খতম

হয় এখানেও। তবু ভাবি, ফেরা-পথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে এই খেলা 

খুচরো পয়সা ছুঁড়ে দিয়ে 

না-দেখাই ভালো ছিল না'কি…. 


১৬।

চল্লিশ দস্যুর ধন আগলানো গুহা রাতভোর আগলানোর পর

দিন-ভর রান্নাবাটি এবং কন্যা-জায়া-জননী খেলাতে

তেতেপুড়ে দুপুরের নাভি পার হয়ে গা-ধুয়েও-না-জুড়ানো তাপোত্তাপ সহ

পাড়াতুতো দিদি-বৌদি-মাসী-কাকী-সোমা দিদিমনি, পুরাকালে, প্রত্যেক পাড়াতে

ফুটে উঠতো প্রত্যেক বিকালে, ফেটে পড়তো ছোটো ছোটো

দলে বা দঙ্গলে। “চিচিং ফাঁক” মন্ত্রবলে কাসেম বা আলিবাবা হতে

উড়ে আসতো স্কুটার, সাইকেলে। ধীরাজলাল হীরাচাঁদ 

"ধীরুভাই" আম্বানি’ মতো কেউ কেউ হুন্ডা বা বুলেটও নামাতো। নিছক পায়ের জোরে

এবং গায়ের, পাড়া-কাঁটাতার ছিঁড়ে বেপাড়ায়ও হানা দিতো বাস্তিবিক বীর যারা –

ভজন-টুকন কিংবা সাভারকার হেন। – সকলে পারতো না, তবে 

কেউ কেউ জ্বলন্ত ও জলজ্যান্ত ওম্‌কার হয়ে চল্লিশ দস্যুর ধন 

আগলানো গুহাগর্ভে ঢুকে যেতো, বোধিবৃক্ষে কেল্লা গড়ে, লোকচক্ষু ঢেকে। হে বালক,

এসকল অদ্য নহে, ঘটতো পুরাকালে। সে’ও ছিল পুরাকালে, তবে

এ সকল ঘটনাতে তার বেকুব দর্শক ভিন্ন বহু যুগ অন্য কোনো ভূমিকা 

ছিলনা। কিছু দেখে, কিছুবা না দেখে দিন কেটে যাচ্ছিল তার চন্ডীমাতাদের জুতা

সেলাই ফোঁড়াই করে আর আবডালে দু চোখেই ছানিও পরছিল। এইভাবে

চলতে চলতে, কথা ছিল যে রাত্রে সে পুরোপুরি কানা হয়ে যাবে, সে রাতেই

টোকা পড়লো দরজাতে আর সদ্য শীৎকার মোছা স্বরে শোনা গেলোঃ

“ও বাবা মুস্তাফা, আছো? ওঠো। দরজা খোলো। দেখো

কে এসেছে। না’গো হুর-পরী নই, বান্দী মর্জিনা, তবে 

শিল্পকর্মে কম যাইনা চল্লিশ দস্যুর ধন আগলানো গুহা –

রাতভোর আগলানো ওই পুরাকাল-খ্যাত কোনো সতী সাধ্বী 

বৌ-মা’দের থেকে। ও বাবা মুস্তাফা, খোলো, নাহলে রাত্রে আমি

শুয়ে থাকবো তোমার দোকানের এই চিলতে বারান্দাতে। সে কি খুব

ভালো লাগবে? তোমার বা বিদ্যাবিনোদ সেই ক্ষীরোদপ্রসাদের?” অতএব

তাকে উঠে, হাতড়ে কুপীটি জ্বেলে, দরজা দিতে হলো খুলে। যেইমাত্র

দরজা খুল্লো অমনি পরী ঘরে ঢুকে বল্লো “ও বাবা মুস্তাফা, দেখো

মন্ত্রগুণ, গায়ত্রী থুড়ি চিচিং ফাঁকের। এই দেখো, চোখ দিয়ে, হাতে ছুঁয়ে দেখো –

এই ছিল বন্ধ দোর। এই হাটখোলা। এই ফের বন্ধ করে দিলাম আঙ্গুলে। তালা

দিলাম ঝুলিয়ে। তারপর যেই ফের চিচিং ফাঁক মন্ত্র পড়লাম –

দরজা পুরো খুলে গেলো পুরাকালে সাধ্বী সতী বৌ-মা’দেরই মতো। এই দেখো

বন্ধ, খোলা, এই দেখো আবার, আবার …”  কতোবার সে যে ঠিক 

কি’বা দেখেছিল সে সকল স্পষ্ট আজ বলা অসম্ভব এবং অতঃপর সে

কানা ছিল অথবা ছিলনা – সে কথাও স্পষ্ট বলা কষ্ট আজ খুব। তবে 

সেই থেকে তার মুখে, সতত উচ্চারিত সেই “ভূর্ভুবঃ স্বঃ চিচিং ফাঁক” শ্লোক।

কে চায় হে আলিবাবা হতে? যদি পাই মুস্তাফার এই কানাচোখ ও সুখ?



১৭।

যেন কাউকে রাখিনি আর মনে, যেন

কিছু-কে রাখি না আর মনে। যেন

কাউকেই  রাখতে হবে না আর

মনে, কোনোদিনই।  “চিচিং ফাঁক, চিচিং বন্ধ” —- এই

গায়ত্রী, আজান কিংবা মিলিত প্রেয়ারে

খুলবে  বন্ধ হবে, খুলবে বন্ধ হবে —- গুহামুখ, যার

এই গ্রহে ডাক-নাম ‘যোনি’। যার বলে 

বলীয়ান, নরবলি দাবী করতে পারে

প্রতিজন দাহ্য রমণী। রমণী, দাহ্য, তবু

প্রতিজনই আদতে মাদক। মাদক

প্রত্যেক যোনি —- নিজগুণে, 

নিজস্ব আগুনে। মাদক প্রত্যেক যোনি

নিজ রোমে, নীরোমে, সৌরভে। মাদক

 উদ্যোগপর্বে, শান্তিপর্বে আর 

ধর্মক্ষত্র, কুরুক্ষেত্র? – সে হয় নিজেই। তাই 

প্রয়োজন নেই আর মনে রাখবার কোনো

শ্লোক, শোক, সুখ বা চীৎকার। যোনিগুলি জোনাকির মতো

চরাচরে দীপ্যমান  হলে ঝিঁঝিঁগানে লিপিবদ্ধ হয়

“খুল যা সিমসিম” মন্ত্রের 

অন্তর্গত মোক্ষ, সুখ, শোক, জ্বালা আর 

সকল শীৎকার। 

–---

১২।০২।২৫


১৮।

বলো কি ভাষায় লিখি সেই দৈব কথা

কিছুটা শীৎকার যার, বাকী নীরবতা।

নিজ জিহ্বা হতে দেবী নিজ লালা ঢালে

যোনি মধ্যে ধায় কিছু, যৌন-কেশ-জালে

লালা-বিন্দু, যেন ইন্দু খণ্ড খণ্ড হয়ে

শিশিরে ধৌত ঘাসে রয়েছে ছড়ায়ে।

মধ্যম অঙ্গুলি তার, যেন চ্যালাকাঠ —-

ত্রস্তে যায় পার হয়ে যোনির কপাট।

অঙ্গুলি স্পর্শে যোনি চুলা হয়ে জ্বলে —-

দেখি সে দৈব খেলা আগুনে ও জলে।

সারাদিন থাকে দেবী বধূ-ছদ্মবেশে

যোনি চিতা হয়ে জ্বলে রাতের আবেশে।

অত:পর যোনি যবে আরো অগ্নি চায়

স্তন টিপে, ঝরে দুগ্ধ ফোঁটায় ফোঁটায়।

এইবারে নামে ঢল অন্তর্গৃহ হতে —-

ভাসায় দেবীকে জল স্বর্গগামী পথে।

বেকুব দর্শক আমি, কমলে কামিনী

সাক্ষাতে অচিন শুধু স্বপ্নে তারে চিনি।

রাখালিয়া ভাষা দিয়ে সেই দৈব কথা

যথাসাধ্য বর্নণের অন্তে  নীরবতা।

যোনি স্বর্গ, যোনি ধর্ম, যোনি-ই পরম।

যোনি প্রীত হ'লে সর্ব জ্বালা উপশম।।



২৬।০২।২৫



১৯।

আকাশে জমাট মেঘ। তবু 

বৃষ্টি হচ্ছেনা। তাই 

কেবলই গুমোট বাড়ছে 

মিনিটে মিনিটে। আর 

আমার অন্ডাশয়ে

“পৌরুষ” জমে –

জমে জমে কঠিন বরফ। যদি

এইভাবে চলে, তাহলে 

অন্ডাশয় অচিরে

পাথর হয়ে যাবে। ঠিক

যে রকম যোনিগুহা

গর্ভগত প্রেরণার মতো

সৃষ্টিশীল ঝর্না গুলি 

মেনোপজ হ’লে 

আমূল শুকায়, সেরকম 

অন্ডাশয় 

ঠিক কোন বয়স, অভিজ্ঞতা 

পার হ’লে হয় 

নিজেই পাথর? এই গ্রহে 

এরকম কোনো

পঞ্জিকা নির্দেশ থাকলে 

আমি সব যৌন কেশ – শুভ্র বা কালো –

বন্ধক রাখবো চড়া সুদে। আর কেউ 

রাজি না হলেও

এ গ্রহের পুরোহিত ও প্রাজ্ঞ কবিকূল 

সুনিশ্চিত দেবে

চড়া সুদ আমার শাদা ও কালো 

যৌন কেশ হেন 

সামগ্রীর বিনিময়

আর

বদলে সুবর্ণ মুদ্রা। নিয়ে

আমি যাবো গ্রহান্তরে

সাথে

নিয়ে যাবো সে সকল যোনি

যারা মেনোপজ মাইল-পাথর

নিয়ে ভাবেনি কদাপি। যারা

লিফটের মতো

খুলে যায়

আঙ্গুলে সামান্য চাপ

দিলেই বোতামে।

—-

২০।

খুদে, শাদা ইঁদুরের মতো এইসব ফুটো। 

খুদে শাদা ইঁদুরের মতো ধবধবে দাঁত 

এদেরো রয়েছে, যেন দুধ-দাঁত তারা

মানুষ-বাচ্চার। একমাত্র এইসব 

খুদে, শাদা ইঁদুরের সাথে —- একমাত্র এইসব 

খুদে, শাদা ইঁদুরের হাতে —- হাতে হাতে —-

মোমবাতি জ্বেলে দিলে পরে

এখনো পালায় মৃত্যু, ধরা-পড়া পকেটমার হেন

উর্ধশ্বাস দৌড় দেয় পূর্ব দিক ধ'রে। মোম-ফোঁটা গুলি টুপটাপ 

আনন্দিত ঝরে যায় 

খুদে, শাদা ইঁদুরের নিজ 

অন্তর্গত, অজানা ফুটোতে। বাঁকে বাঁকে যার

এখনো বিস্ময় বহু

টাটকা, তাজা

আছে।


২১।


চমকে ওঠো স্নান-ঘরে গেলে? মনেহয়

কেউ আছে? দেখছে তোমাকে? পুকুরেও

দুপুর-সাঁতারে, টের পাও জলে ডোবা চোখ

গিলে খাচ্ছে, খেতে আসছে “অ” অক্ষরে

অজগর হেন? তাহলে নিশ্চিত জেনো

আমিই “হ্রস্ব-ই” তে সেই ইবলিশ 

যেন-তেন প্রকারে যে টুক করে ঢুকে যেতে চায়

তোমার গোলাপে, পদ্মে —- সদর বা

খিড়কিদোর দিয়ে। উদ্দেশ্য? অসৎ নয়। শুধু

তোমার দৃষ্টিপথে তারা ইচ্ছা করে ধোঁয়া ও কুয়াশা

বিছিয়ে রেখেছে বলে তুমি ভাবো ইবলিশ 

অন্যত্র থাকে, বশ করে তোমাকে ম্যাজিকে

করায় গর্হিত কাজ, গুনাহ, যৌন-পাপ

ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি শুধু জানাতে এসেছি

আদতে ইবলিশ থাকে, জন্ম থেকে, তোমার ও আমার

ওই নাভি-নিচে, উরুতের ভাঁজে। ঈশ্বর নিজে খোজা

তাই ইবলিশ কে ভয় পায়। ঢেকে রাখতে বলে। আর আমি

“হ্রস্ব-ই” তে সেই ইবলিশ যেন-তেন প্রকারে যে 

টুক করে ঢুকে যেতে চায় 

তোমার গোলাপে, পদ্মে —- সদর বা

খিড়কিদোর দিয়ে। উদ্দেশ্য? অসৎ নয়। শুধু

তোমাকে তোমারই দোস্ত ইবলিশের সাথে

বেঁধে দিয়ে যেতে চাই একই সূত্রে, একই

গাঁটছড়া দিয়ে এ জন্মের মতো।



২২।


কালকের গাছে আজকের রোদ, হাওয়া

আজকের কলি কালকের সুরে গাওয়া।

আজ খুলে যাবে কালকের বাঁধা চুল,

আজকের কানে কালকে মেলার দুল

আজকের মেঘে, রোদে করে চিকচিক।

তাহলে বৃষ্টি হবে আজ ঠিক-ঠিক?

#


তাহলে বৃষ্টি হবে আজ ঠিক-ঠিক?

স্তনের বাদামি বৃন্তে সাঙ্কেতিক 

নামবে কি ধারা দূরের দ্বিপ্রহরে?

স্তনের বাদামি বৃন্ত পুড়বে জ্বরে?

দুইটি বোনেরই? যে গেলো মেলায়

একা যে রইলো ঘরে?

 #

যায়নি মেলাতে, তাই মেলা-ভিড় মন?

অভিমানে আরো সুগোল হয়েছে স্তন।

বাদামি বৃন্ত বর্শা ফলার মতো

অজান্তে এঁকে দিয়েছে প্রতীকী  ক্ষত

মেলায় সকল পুরুষের বুকে, পিঠে।

নাম নেই, তবু কেন দুর্নাম রটে

তাদের নাভি ও বাদামী বৃন্তটির?

কেন গায়ে কাঁটা? কেন নাভি শিরশির? 

#

আজকে বাতাস স্তনযুগ খোঁজ করে

নাগরদোলায়, এখনো মেলার ভিড়ে।



২৩।

একটা ছবি কিছুতেই মাথা থেকে যাচ্ছেনা। লিখলাম। তবু যাচ্ছেনা। হয়তো আঁকতে হবে। একটা ছবি, একটা মফস্বল শহর। এসেছিলাম উনিশশ সাতানব্বই আঠানব্বই সালে, কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে। এই রানাঘাটই। তখনো কবি (বালের) জয় গোস্বামী এখানে থাকতো। স্টেটব্যাংক একটা ছিল, তার কাছেপিঠে। শহরের ছবিটা প্রায় ভুলেই গেছিলাম।  তোমরা দিলে মনে করিয়ে। —- নিশ্চয় সে রানাঘাট আর নেই। এখন সর্বত্র পিজাহাট আর মল,মলদ্বার।..  কিন্তু আমার চোখে অন্য ছবি। তাই যেই একবোন বল্লো মেলায় গেছে, অমনি আমার বাল্যের, হারানো মফস্বলি মেলা ফিরে এলো। ফিরে এলো  চপল অথচ লাজুক, লাজুক অথচ কৌতুহলী সদ্য যুবতীরা,  যাদের দেখেছি আমার কৈশোরে। পাশাপাশি,  জানলাম, আরেক বোন যায়নি। সে শ্বশুরবাড়ি আছে। শাশুড়ীর পাহারায়। বরটি কাজে গেছে। –--- নাগরদোলা, চাট-দোকান, বিদ্যুৎ-কন্যা [ তোমরা দেখেছো এটা? ], ম্যাজিক-অলা, বন্দুকে বেলুন ফুটো করা দোকান, রিং ছুঁড়ে সাবান তাক –--- আহ, আমার কল্পনায়,  একদিকে। আরেকদিকে, আরেকটু বড়, পূর্ণ যৌবনবতী একজন, যায়নি মেলাতে। —- অথচ বিয়ের আগে তারা সতত-সর্বত্র একত্র থাকতো। দুজনেই মা হারিয়েছে সম্প্রতি,  দুজনেরই স্তনবৃন্ত ব্রাউন, যদিও এক জনের যোনি কামানো, গোছানো সাজানো, যেন ডালভাত মেখে তৃপ্তি করে খাওয়ার থালা। আরেকজনের যোনিও এমনই ছিল। কিন্তু বিবাহোত্তর সে আদিম। যোনি ঘিরে অরণ্য… 

দুইবোন।

একজন মেলায় উড়ছে, যেন প্রজাপতি। 

আরেকজন শ্বশুর-আলয়ে। যেন বন্দিনী।

আহ, দুইটি যোনিই চায় পুরুষ-জিহ্বা।

দুইটি যোনি, যদিও ভগিনী, তবু ভিন্ন রস, ভিন্ন স্বাদ।

আয় মন, আস্বাদ করি।



২৪।

এই গ্রহের এবং আর সব ব্রহ্মান্ডের আর সব গ্রহের 

সব গণিকাই হয় আমার বোন।  তেমন তলব লাগলে,

সাধ্বী পত্নী ছাড়া, শুধুমাত্র এদের সঙ্গেই গর্হিত অথচ সুখদ

কাজকর্ম গুলি আমি সেড়ে নিই,  সেড়ে নিতে পারি। তাই 

“বাঞ্চোত’  শব্দে আমার হক একশো ভাগ খাঁটি। 





২৫।

সকল যুদ্ধে হারার শেষে কার বুকে মুখ ঢাকবো ভাবি –

উথালপাথাল সেই রাধিকা? না’কি রাধার কোমল আঁখি?

কখনো এক রাখাল ছিল হাড়-পাঁজরের এই বাসাতে

তলতা বাঁশের নয় হে, হাড়ের 

বাঁশিটি তার থাকতো হাতে।

জানতো না কার নাভির নিচে রাখবে হাড়ের বাঁশিটি তার –

নরম কোমল আঁখি’র নাকি উথালপাথাল সেই রাধিকার?

এই দ্বিধাতে রাত্রি দিবস, দশক শতক ফিরিয়ে গেলে

দুই নাভিতেই যক্ষ হয়ে করলো বসত রাখাল ছেলে।


২৬।

পতিদেবস্য পোড়া ধোনের গতিবিধির নজরদারী করেই

কি বাকি জীবনটাও কাটবে তাঁর? ধোন ভিন্ন

ধন কিছু, পোড়া-পতির অন্য কোনো

অঙ্গে প্রত্যঙ্গে ছিল কি'না, এ নিয়ে কি

কখনোই ভাববেন না তিনি? অথচ

ভাবা’টি কি ছিল একেবারেই অসম্ভব? তিনি তো

পোড়া-পতির খুব কাছেই থাকেন। ঠিক যেমন

যোনিগুহা আর

কন্ডোম-মোড়া ধোন।














































হাতে গরম ...

ওং, যোনিপদ্মে ওম