রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২২

।। বিষাদবেশ্যারা,অসীমাপর্ব ।।

।। বিষাদবেশ্যারা,অসীমাপর্ব ।।

 

 “All happy families are alike; each unhappy family is unhappy in its own way.” -Tolstoy

 “All ‘happily married’ ‘legal whores’ are alike; each real whore is happy or unhappy in her own way.” – The Fallen Angel

 ‘ভাগ্যবান  সমূহ পরিবারই একে অপরের মতন; প্রতিখানি দুর্ভাগ্যপীড়িত পরিবারের দুর্ভাগ্যের অবয়ব হয় নিজস্ব।“ – টলস্টয়

 “সমূহ ভাগ্যবতী বিবাহিতা সামাজিক গণিকাই একে অপরের মতন, দুর্ভাগ্যপীড়িতা প্রতিখানি প্রকৃত গণিকার দুর্ভাগ্যের অবয়ব নিজস্ব।“ – দগ্ধ দেবদূত

 


 ১।

 যেহেতু জিন প্যান্টের সম্মুখ বোতাম গুলি খুলিতে, সে হইয়াছিল নারাজ অতএব কোমর ঘেড়িয়া হাত বেড়াইয়া – যেনবা পাহাড়িয়া চিতার – প্যান্টির ফাঁক গলাইয়া – নিতম্বের খাঁজ বাহিয়া, হাজির হইলাম ঝর্ণামুখে। উৎসে সামান্য পিচ্ছিলতায় আহ্বান ঘোষিত হইল। হাজার টাকা দিতে বুকের জামা খুলিয়া দিয়াছিল নিজ হাতে। আমি স্বহস্তে অন্তর্বাস খসাইয়া দক্ষিণ স্তনের বৃন্তে জিহ্বা রাখিলাম। শিহরিত হইল কি’না আন্দাজ পাওয়া গেলোনা। বাম স্তন তখন  আমার মর্দনে লজ্জাবতী। লতাইয়া গিয়া এইবার পাতা মেলিতেছে। আমার দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুলী লাভা-ঝর্ণার উৎস হইতে কিঞ্চিৎ গহনে যাইল। অনায়াসে। জানিলাম আরাম আসিতেছে। তাহারও। পাহাড়িয়া যুবতী শরীর। জন্মগত মসৃণ। সে আরেকটু বেষ্টিত হইয়া আমার লিঙ্গ করিল করতলগত। ধীরে, অতি ধীরে আমাকে সেই ছোট শয্যাটিতে চিত করাইয়া দিয়া সেও বিছানাস্থিতা হইয়া একটি বাহু আমার গলা বেড়াইয়া আমার বুকে নখের আঁচড় দিল। তাহার অন্য হাত আমার লিঙ্গের আপ্যায়নে নিরত।

                                     শীত সকালের আকাশ দেখা যায় জানালার পর্দার ফাঁক দিয়া। কোঠাটি বড়। আলো বাতাসের আনাগোনা। পাহাড়ি শহরের প্রায় কেন্দ্রে। ঢুকিবামাত্র সে’ই এক গেলাস ঠান্ডা জল আনিয়া দিয়াছিল। আহা – আয়তলোচনা, সূতিশার্টের হাঁ-মুখে স্তনের বিভাজনসহ সামান্য পরিধিইঙ্গিতও দৃশ্যমান। চোখ মৃদু কাজলদাগে দাগী।  যেন অন্তর্গত উত্তাপে দেবীশরীরের গর্জনতৈল। যেন সিক্ত পরাগগুলি ভাসিয়া আসিতেছে ঐ চক্ষু বাহিয়া! চাহনিতেই আমি বধ হইয়াছিলাম। স্তনসন্ধির সিক্ত আমন্ত্রণ দরকার ছিলনা।

                 কানে মৃদু শীৎকার ধ্বনি আসিল এইবার। এইবার টের পাইলাম যে, এতোক্ষণ  নিয়ম মাফিকতার পর্দা ফাঁসিয়াছে। লাভামুখের প্রস্রবন বাঁধ মানিতেছে না। আমি আমার অঙ্গুলীটিকে – কুমোর যেমত চক্ষুদান করে - দেবীর – তেমনি নিবিষ্টতায় পরিণত করিতে চাহিতেছি একটি জীবন্ত পুরুষাঙ্গে। জানিতেছি, তন্মুহুর্তে, এ’ও, যে, এইবার পরিপূর্ণ সঠাপ, রমণ সম্ভব। তথাপি তাহার চম্পকহেন অঙ্গুলী অধুনা যে অবলীল ছন্দে আমার লিঙ্গে নিরত সেই আরামটুকুও ছাড়িতে হইয়াছি অক্ষম। অতএব ওই ভাবেই আমার রেতঃপাত হইল। তাহার ঝরা-গোলাপ বর্ণের হাতের, হাতের তালুতে, তাহার কম্পিত বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ বাহিয়া, মোমবাতির ফোঁটার মতো সেই পৌরুষ হইল বহমান। তদ্‌-অন্তেও তাহার অঙ্গুলী যেন আরো গহন অগ্নিসন্ধানে আমার লিঙ্গে রহিল নিরত। বৃদ্ধাঙ্গুল-নখ লিঙ্গমুখে ঘর্ষিত হইল। আহা!রাম! আরাম!আরাম!

       হয়ত আমি পরদেশী বলিয়া প্রথম মোলাকাতেই পেন্টি খুলিয়া দিতে চাহে নাই। ইহা তাহাদের ব্যবসার ‘উশুল’। নিরুপায় উশুল। যদি পুলিশ হয়, যদি 'খব্‌রি' হয় পুলিশের ... তবে আরেকটি যে উশুল তাহা এই, যে, উহারা চেষ্টা লয়,সর্বভাবে, ‘ফেলা কড়ি’র পাই পয়সার সুখটুকু তৈলহেন তোমাতে মাখিয়া দিতে, উজাড়িয়া দিতে। আহ্লাদে আটখানা হইয়া যে লিঙ্গ শিবনেত্র, বর্তমানে তাহার গাত্র হইতে আমার বীর্যের রেখা গুলি টিসু কাগজে আলতো  হাতে মুছিয়া দিল সে। মুছিয়া দিতে লাগিল তাহার যোনিগত তরল অগ্নির ছ্যাঁকা, আমার আঙ্গুল হইতে। অতঃপর সে নিজের পেন্টিস্থিত লাভামুখটিকে মুছিয়া লইবার নিমিত্ত স্বহস্তে টিস্যু পেপার লইলে সেই পেপার আমি লইলাম। তাহার যোনি, যাহা মুহুর্ত পূর্বেই ছিল গুদ, তাহা মুছাইয়া দিতে দিতে  বলিলামঃ “নামের কি আসে যায়? তবু বল নামটি তোমার?”

 -“অসীমা”

 -“ কোথা হইতে আসিয়াছ এইখানে?”

 পরিচিত একটি দূর গ্রামের নাম বলিল।

 সমস্ত ধোয়া মোছা হইয়া গেলে বসাইলাম আমার পার্শ্বে। মাসিমনিকে যে টাকা দিয়া আসিয়াছি তাহাতে ১টি সম্পূর্ণ ঘন্টা সে আমার। কিন্তু কুড়ি মিনিটের মধ্যেই শিবঠাকুর শান্ত। হায়! অথচ শিব ঠাকুরের অহর্নিশি নাথামা নেত্যর অর্থই কাল। মহাকাল... কেন যে  সাধারনতঃ ঐ’টি ঘটিয়া যাইবার পর মুহুর্ত হইতে  ব্যাটা মানুষের মন, যাহা ধোন ছিল এবং হইবেও আবার, বলে ‘ছেড়ে দে ম্‌ মুতে আসি’ - কেজানে। কিন্তু এক্ষেত্রে, আশ্চর্য, তেমন হইল না - অর্থাৎ হয় ধোন মন হইল না বা মন ধোন হইল না অথবা মনে-ধোনে মিশিয়া হইল একাকার। নগ্নাবস্থায় শায়িত থাকিয়া পার্শ্বে উপবিষ্টা তাহার স্তনে – যে স্তন তখনো আহ্লাদ বিস্মৃত হয়নাই – অঙ্গুলীদিগকে চারনে লাগাইয়া বলিলামঃ “তোমার তো পুরাপুরি ভিজিয়া গিয়াছে। এখন কি করিবে?”

 চোখ অন্য দিকে লইয়া বলিলঃ “কিছুনা”।

 “তোমার ঢোকানোর ইচ্ছা করেনাই?”

 সামান্য নীরবতার পরে সামান্য মাথা নাড়াইল। “আমাদের ইচ্ছা অনিচ্ছাতে কি আসে যায়?”

 “তবে চুদিতে দিলেনা’যে বড়?”

 এইবার সরাসরি আমার চোখের দিকে চাহিয়া বলিলঃ “এখন করিবেন?”

 আমার শিব বাবাজীর দিকে দৃক্‌পাত করিয়া করুণ হাসিলাম। বলিলামঃ “পর পর দুইবার চুদিবার বয়স গেছে”।

               তন্মুহুর্তে সে  একহাতে শায়িত য়ামার শিব ঠাকুরকে তুলিয়া লইয়া উবু হইল । তাহার বোতামখোলা জিন প্যান্টের পিছন ভাগ আমার সম্মুখে। তাহার পিঠ, তাহার শিরদাঁড়া.. ততোক্ষণে তাহার জিহ্বা, তাহার দন্ত – আহ্‌, এমন নিকানো উঠানের মতো তকতকে – তাহার ঠোঁট – অবশ্যই লিপস্টিকে মাখামাখি – শিব ঠাকুরকে গ্রাস করিয়াছে। চাটিতেছে। খাইতেছে। আহা! হে মাধব! হে গোবিন্দ! মাগো! আহা! রাম! হইল। আরাম হইল। কিন্তু শিব ঠাকুরের ত্রিশূল উত্থিত না হইয়া আমি মগ্ন হইলাম যৌব নিদ্রায়।

              নিঃস্বপ্ন নিদ্রা ভাঙ্গিল তাহার আলতো ঠেলায়। সময় হইয়া গিয়াছে। সময়েরে দিতে ফাঁকি, এই মর্দন-কাননে, সাধ্য, কাহারো, নাই। অতএব এবে বাহির না হইয়া গেলে মাসিমনি ডবল্‌ চাইবে। বলিলাম “ডবল্‌ দিতে আমার আপত্তি নাই”। সে হাসিল। বলিল “জানি। কিন্তু কি করিবেন?”

 “কিছুনা। শুইয়া শুইয়া তোমার দুধ হাতাইব আর গল্প করিব”।

 হাসিল। সেই হাসির কোনোখানে ছেনালী নাই। লোভ নাই। বদমাইসি নাই। নারী স্বাধীনতা নাই। কামও নাই। মায়া আছে। রহিয়াছে কুহক।

 বলিলঃ “ এখানে গল্প  জমবে না। নম্বর দিন। অন্যত্র সুরাহা সম্ভব। হইলে ফোন করিব অথবা টেক্সট্‌ ...”

 ২|

 অসীমা অধুনা অন্যত্র কেননা এই মুহুর্তে আমার দৃষ্টিপথে ঝুলন্ত, দুলন্ত তাহার সিক্ত, ঈষদসিক্ত নানা রঙের, ঢংগের পেন্টিগুলি এবং বাদলা বাতাসে বাষ্প,হয়,অসীমারই অন্তর্গত লোধ্ররেণুরই। নিশ্চিত। আমি শায়িত, তাহার ক্যাম্পখাটে। হাতপা ছড়াইয়া যিশুখৃষ্ট। নাক বরাবর শিক দেওয়া জানলা একটি। ইহারো পাঞ্জরে, মেরুদন্ডে শোভিতা অসীমাই – পেন্টি ও ব্রেসিয়ার। পেন্টি, সংখ্যায়, সরকার গঠনের আদর্শ। তুলনায় ব্রেসিয়ার অসমর্থ্য যুক্ত ফ্রন্টের দাবী তুলিতেও। কেন এই অসাম্য? অসীমার?                                                 জানলার বাহিরে মেঘলা আকাশের চালচিত্রে বাঁশঝাড়। দুলিতেছে হিমবাতাসে। হিমবাতাসের বর্শা এতক্ষণ আমাতে ঠেকিয়া বাঁকিয়া চুরিয়া ফিরিয়া গিয়াছে কেননা অসীমা বা অসীমার শরীর সশরীরে ছিল আমার আংরাখা। এক্ষণে, যেহেতু শিবঠাকুর কেলাইয়া পড়িয়া আছেন এবং কোঠা সংলগ্ন টিনের দরজার সিনানঘর হইতে অসীমার মুতের ঝর্নাধ্বনি যাইতেছে শুনা- যাহার অর্থ হয় আমরা এবে ভিনদেহি, অতএব আমি এখন উদাম লেংটা, প্রকৃত। আমার শীত বোধ হইতেছে। অন্ডাশয় আক্রান্ত হইতেছে, মুহুর্মুহু, হিমবাতাসীসূঁচে। অথচ  ঠিতে, নড়িতে, ফিরিতে ইচ্ছা নাই বিন্দুমাত্র। আলতো সুরে ডাক দিলামঃ অসীমা ...

 যদিও ইহাদের ক্ষমতা, হয়, সীমিত তথাপি ইহারা , অসীমারা ,  সকলেই হয় নিবেদিতা। নিবেদিত কাস্টমারের প্রতি। মনোযোগী কাস্টমারের প্রতি। ফলতঃ আমার এই মৃদু ডাক, জলবিয়োগ কিংবা যোনিপ্রক্ষালনের কলকালানি ভেদ করিয়া তাহার কানে গেলো। দরজা সামান্য ফাঁক করিল। নাভিনিম্নের ত্রিকোনে সাবান না’কি লোমতোলা ক্রিম?  দৃষ্টিতে প্রশ্ন। বলিলাম “শীত, অতিশয়, বোধ হইতেছে, অকস্মাৎ”। হাসিল। আড়াল হইল টিনের দরজার পরপারে। পলকের জন্য, গায়ে-পিঠে একটি সূতি গামছা জড়াইয়া আসিল বাহির হইয়া। বুক,গলা,গুদ গামছায় ঢাকিয়াছে। দেওয়ালের দড়িতে ঝোলানো একটি চাদর, যাহাকে বলা হয় ‘নাগা চাদর’, ভাঁজকরা, তাহাই আনিয়া খুলিয়া আমার উদ্দাম উদামতা ঢাকিয়া দিল। দেখিলাম হিমবাতাসে তাহারো রোমাঞ্চ। গুহামুখের ফেনায়িত ত্রিভুজের হাল জানিতে লোভ হইল। আমি ওই স্থানে হাত দিলাম। যদিও খোলা গায়ে, ভিজা দেহে হিমবাতাস অবশ্যই ফুটাইতেছে হুল তাহার তথাপি কর্তব্য বশে আগাইয়া আসিয়া আমার  হাতের হাতানোর সুবিধা করিয়া দিল। সাবানসিক্ত তাহার ভগাংগুরে মধ্যাংগুলে একটু ছুঁইয়া দিয়া বলিলামঃ “স্নান সমাপন লহ শেষ করিয়া”। নিজহাতে , আমার যে অঙ্গুলী, এইমাত্র, তাহার গুদসাবানে পিচ্ছিল , দিল মুছাইয়া। আমি, অধুনা চাদরঢাকা,  আমার কেলাইয়া যাওয়া শিবঠাকুরে হাত দিয়া দেখিলাম তাহার নিতম্বের গমন – দেবী সরস্বতীর বীনাহেন। বলিলামঃ “স্নান কর, গুদে সাবান মাখো, হাগো, মুতো – যা ইচ্ছা কর কিন্তু দরজা খুলেই কর। আমি দেখব …” গ্রীবা ঘুড়াইয়াঃ ‘ গান্ডুচোদা" এই রসাত্মক শব্দটি উচ্চারিয়া, হিম বাতাসকেও চম্‌কাইয়া দিয়া, স্নানঘরে গেল। দরজা বন্ধ করিল না ঠিক,  তবে হা উদাম খোলাও রাখিল না।

      ইহারা যে হয় আমার ভগিনী তাহা টের পাইয়াছি বহু পূর্বেই। হলং রোডের কিনারের হাইওয়ের ধারে দাঁড়ানো সেই কাইষ্ঠা ‘শিবুর মা’ থেকে হারকাটা’র জ্যোৎস্না, খালপারের চন্দনা … প্রত্যেকেই আমার ভগিণী। যাহাদের গোল কিংবা বর্তুল কিংবা চিম্সা দুধে এখনো মুখ রাখিনাই, হয়ত রাখাও হইবেনা এই জীবনে ( জীবন এত ছোটো কেনে?) – কিন্তু যাহারাই, যেখানেই পীনোন্নত অথবা ভোঁতা অথবা ঝোলা দুধ আর লোমশ বা নির্লোম যোনিমণি লইয়া, প্রতীক্ষমানা তাহারা সকলেই আমার ভগিনী। ভগিণী, কেননা, আমি তাহাদিকের ভিতরে প্রবিষ্ট হই নেহাৎই চুদিবার নিমিত্ত নহে। তাহাদের যাপনের অন্ধকার, জীবনের উপলবন্ধুরতার কাহনের ভাগ লইতেই আমার এই গুদসাধনা। ইহারা আমার আশ্রয় কেননা তাহারা নিবেদিতা।  তাহারা তোমার সকল সুকর্ম দুষ্কর্মের কাহিনী নীরবে শুনিয়া যায়। তোমাকে বিচার করেনা। তবে হ্যাঁ,পয়সা , তাহারাও, চায় কেননা পয়সার তাহাদের দরকার যত তত  দরকারই মঠ,মিশনের,রাজাগজার, কবির, দার্শনিকের, ভাবুকের, বিল্‌ গেইটসের, ওয়ারেনবাফেটের ...কিন্তু সকল ভগিনী নিবেদিতা হয় শুধুমাত্র পয়সার নিমিত্ত নহে। মনু ও মানবের বিধানে ইহজীবনে যে সম্পর্কগুলির উত্তাপে তাহারা হইয়াছে বঞ্চিত সেই সমস্ত ভূমিকাগুলিতে তাহারা চায়, সচেতনভাবেই, অভিনয় করিয়া লইতে ঠিক যেমন অনেকানেক সতীই মনে মনে উন্মাদিনী নিজ নিজ যোনিমণিকে যাযাবরত্ব দিতে - নানা শিবে, নানান মন্দিরে।

        অসীমার স্নান সমাপন হইল। অতএব অন্য সমস্ত প্রসঙ্গে সাময়িক ইতি টানিয়া দৃকপাত করা যাউক অনির্বাণ তাহার দুধে, নাভিতে, ত্রিকোণে, গুদ-গঙ্গায়, বগল-বৃন্দাবনে ...

                          শিবঠাকুরের পূজা দিতে নিজনিজ পন্থামত, তাহারা প্রত্যেকেই হয় সিদ্ধা। একজন বামা, খ্যাপিয়া গিয়া  যদি জিহ্বায় তাঁহাকে কচলাইতে উস্তাদ তবে আরজন তাঁহাকে স্তনের গয়না অথবা গয়নার নাও করতঃ, মস্তিময়ী। অনেকেই আবার নাভিথালিতে তাঁহাকে নিংড়াইয়া লইতে রান্ধুনী দ্রৌপদী।  খেলার প্রতিভা , অসীমার, অবশ্য ছিল, জিহ্বাগ্রেই শুধু নহে। পদযুগলেও। বাম পায়ের বুড়া আংগুলে গুহ্যদুয়ারে সুড়সুড়ি দিবার সমান্তরালে ডান পায়ের বুড়া আংগুলে শিবঠাকুর ঘষিয়া, আহা, যেন নারিকলের জল মিশ্রিত রাম , প্রসাদ হইয়াছে, হইয়াছে বিবেক। আনন্দ!! আহা! তবু কেন ক্রিয়াক্ষেত্রে বলিলাম “ছিল”? তবে কি সে আজ আর নাই? নাই তাহার যোনি ধরিত্রীতে? পুত্র বিয়াইয়াছে? অথবা কন্যা? পাঠক, আইস, সন্ধান লই…

 ৩।

 কোনো এক গল্পে, সম্ভবতঃ ‘একরাত্রি’, রবি ঠাকুরের প্রোটাগোনিস্ট এমত কিছু বলিয়াছিল- হইতেছিলাম গ্যারিবল্ডি হইয়া গেলাম গাঁয়ের ইস্কুলের সেকেন্ড মাস্টার – আর আমি, ভাবি, এই মুহুর্তে, অসীমা যখন উদাম হইয়া বসিয়া ফোন দেখিতেছে, যখন আমার ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ তাহার যোনিমণির আশেপাশে ধীরে বিহারমান, তখন, যে, আমি, কি হইতেছিলাম? যাহা হইয়াছি তাহার সদরকে যদি বলাযায়  “ট্রেভেলিং সেইলস্ম্যান” তবে অন্দরকে কি বলাযায়? – ভাবুক? কবি? দার্শনিক? মর্ষকামী? খচ্চর? হারামী?

“তুমি ঠিক কি হইতে চাহিয়াছিলে, বাল্যকালে? কৈশোরে?”

সন্ধ্যা ঘনাইতেছে। বৈকাল হইতেই কুয়াশা উঠিতেছে ঘনাইয়া।

“কি আবার হইতে চাহিব? আমিত আমিই হইতে চাহিয়াছি সতত”

ইচ্ছা হইল জিগাইঃ “পারিয়াছ কি?” পরিবর্তে বলিলামঃ “না, মানে, এইসকল ভিন্ন অন্য কিছু করিতে ইচ্ছা যায়নাই কখনো?”

ছোটো, হাফওয়ালের বাড়িটি , একটি টিলার উপরে। অনেকটা উঠিতে হয় মাটির থাক থাক সিঁড়ি বাহিয়া। থাকগুলি সুপারীগাছের টুকরা দিয়া আটকানো।

“এইসকল করিতেও যে ইচ্ছা যায় তাহাইবা কে বলিল?”

ইচ্ছা হইল জিগাইঃ “তবে কর কেন?” – জিগাইলাম না। ভয় হইল যদি আদর্শ শিশুপাঠ বা সৎকথা-সুকথা বা হনুমান চালিশা অন্যথায় শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনামের ন্যায় বলিয়া উঠেঃ “কি আর করিব? পেটের দায়ে। অতি বাল্যকালে পিতাকে হারাইয়াছি। মা মানুষের বাড়ি বাড়ি গতর খাটাইয়া বড় করিল। তারপর একটি লোক আসিল। বলিল ‘ভালবাসি’ তারপর ভুলাইয়া ভালাইয়া …” পরিবর্তে বলিলামঃ “করিতে ভালো লাগেনা তোমার?”

“লাগে কারো কারো সঙ্গে লাগে। কোনো কোনো সময়ে লাগে”

“আমার সঙ্গে? এখন?”

“তোমার কি মনেহয়?”

অন্ধকারে তাহার মুখ দেখা গেলোনা। অন্ডাশয়ে তাহার আহ্লাদী পায়ের টোকা টের পাইলাম। লেংটা গায়ের উপর একটি কম্বল জড়াইয়া সে উঠিল।

“উঠলে কেন?”

“বাতি জ্বালতে হবেনা? ঠাকুর দিতে হবেনা?”

উঠিল। কারেন্টের তার যে এই গৃহের কোথাও নাই তাহা দিনভর লক্ষ্য করিনাই। দুপুরে ক্যারোসিনের স্টোভে খিঁচুড়ি খাইয়াছি। বলিলামঃ “চা হবে?”

“হবে”।

একটি লন্ঠন, কেরোসিন কাঠের একটি টেবিলে রাখিয়া ক্যারোসিন স্টোভ ধরাইয়া কেটলীতে গরমজল বসাইয়া সে ঢুকিল স্নানঘরে। ভাবিলাম সাফ সুতরা হইয়া আসিয়া ঠাকুর দিবে। সিগারেট ধরাইলাম। আহা, ‘ঠাকুর’, সত্য, কি অসীম মহিমা তোমার! আমার নুংকুতে তুমি আছ “কাম” হইয়া আবার সোয়ামী, মহারাজ ও সন্তদিগের মুখেও আছো “নাম” হইয়া! ইলেকশানেও, থাকো, হে ঠাকুর, “রাম” হইয়া!

                                  আহা, ‘ঠাকুর’, সত্য, কি অসীম মহিমা তোমার! এই গন্গনে অসীমা, কাইষ্ঠা ‘শিবুর মা’ থেকে হারকাটা’র জ্যোৎস্না, খালপারের চন্দনা – সক্কলের যোনিমণিতে আছ “ফুটা” হইয়া আবার ভক্ত-ভক্তনীর কপালে আছো “ফোঁটা” হইয়া!

কিন্তু অসীমা, স্নানঘরে, কি করে? আলো যেন দেখা যাইতেছে স্নানঘরে –

 

কৌতুহল হইল। উঠিলাম।

                             উঠিয়া, অসীমার স্নানঘরে উঁকি দিয়া দেখিলাম সে পূজায় নিরত। উদ্ভাবনী শক্তি অনন্য তাহার।  কমোডের মুখ বন্ধ করিলে যে মোড়ার মত বসাস্থান হয় তাহাতেই সে রাখিয়াছে একটি কালা-পাত্থর গোছের কিচ্ছু। … হে মাধব! হে গোবিন্দ! ঘরে ইলেকট্রিক নাই আর হাগা-কোঠায় কোমোড! … দেখিলাম প্রদীপ জ্বালাইয়াছে তাহার সামনে। দেখিলাম সে নিরত প্রার্থনার সঙ্গীতের মতো আভূমি প্রণামে। দেখিলাম মিনিট দুই। নাহ্, এই দৃশ্য এই জন্মে প্রথম, কেজানে হয়ত বা শেষও - বন্ধ কমোডশিরে উপবিষ্ট ঠাকুর, কালা-পাত্থর, সিগন্যাল পাঠাইলেন, আমার শিবুঠাকুরকে। শিব ঠাকুর সিগন্যাল দিলেন আমার ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠকে। বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দিব্যোন্মাদ হইয়া খোঁচা লাগাইল অসীমার সেই দুয়ারে যাহাকে মুনীঋষিরা ‘গুহ্যদ্বার’ বাত্লাইয়া থাকেন। খোঁচায় ফিরিল, সম্বিৎ, অসীমার।

                            খোঁচা আরামদায়ক বলিয়াই হয়ত চিল্লাইল না। মুখ ফিয়াইয়া চাহিল। প্রদীপালোকে, কমোডাসনে দেবতা কালা-পাত্থরের সম্মুখে, প্রায় প্রণামভংগীতে থাকিয়াই গ্রীবা ফিরানো অসীমা আমার শিব ঠাকুরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা করিল। শিবঠাকুর অসীমার দুই ঠোঁটের ইরা ও পিঙ্গলার মধ্যবর্তী চোষন-গর্তে হইল ধাবিত। - যদিও এতাবৎ একবারও মালকড়ির কথা তোলেনাই অসীমা, যাহা দিয়াছি তাহাই হাসিমুখে লইয়াছে, তথাপি এইবার বলিলঃ “ঠাকুরের সামনে করিলে আলাদা খরচ লাগিবে” আমি আমার শিবঠাকুরকে তাহার মুখগহ্বরে ভরিয়া দিতে দিতে বলিলামঃ আলবাৎ খরচ লাগিবে। আমি দিব সে খরচ। পুরুতমশাইকে দিই আর তোমাকে দিবনা? …” আমার শীৎকারপ্রায় হিসহিসে বাক্য গেলো হিম বাতাসে হারাইয়া। আমি অসীমাকে ‘মুখঠাপ’ দিতে লাগিলাম।

 

 ৪।

 

শিব ঠাকুর, সে তিনি যতই উস্তাদ হন না কেন একাধিক দক্ষযজ্ঞান্তে তাঁহারও ক্লান্তি আসে। ফলতঃ ডিম মামলেটসহ ডালভাত অন্তে যখন বিছানায় উঠিলাম তখন অসীমার বেদানাহেন দন্তের শুশ্রূষা, নবনীনির্মীত অঙ্গুলীর আদরাহ্লাদ সত্ত্বেও শিব ঠাকুরের মুখে সামান্য ফেনা বৈ আর কিছুই উঠিলনা। তখন স্থির হইল জাপ্টাজাপ্টি করিয়া শুইয়া গল্প করা হইবে। বলিলামঃ এতো জায়গা থাকতে তুমি হাগাকমোডে ঠাকুরপূজো কর কেন?

                          “ তাহলে আর কোথায় করব? এখানে?” – বলিয়া মৃদু হাস্যে, তাহার উরুর আরামে নিদ্রিত, আমার শ্রান্ত শিবঠাকুরকে চিমটি দিল।  উত্তরে তাহার যোনি-অংকুরে আমিও মৃদু চিমটি দিয়া বলিলামঃ “তা’তো করতেই পার। কিন্তু করোনা তো। তাই বলছিলাম ...” আমার দেহমন্দিরের সেই দুয়ারে যাহাকে মুনীঋষিরা ‘গুহ্যদ্বার’ বাত্লাইয়া থাকেন, তাহাতে নখাগ্র স্থাপনান্তে অসীমা বলিলঃ “ আমাদের ঠাকুর দেব্তা আর কি বলতো? আজ হিন্দু আসে তো কাল মুসলমান, পরশু কিরিস্তান তো তরশু শিখ-হিসাই …” গুহ্যদ্বারপ্রান্তের আরামটুকুতে অভিভূত হইতে হইতে মনে আসিল কাব্যাংশঃ “শক, হূন দল পাঠান মোগল এক দেহে হলো লীন…” – অসীমা বলিয়া চলিলঃ “তাই কাকে রাখব আর কাকে রাখবনা বল? কোঠায় তাই ঠাকুর রাখিনা। রাখি ওউ হাগাকমোডের ট্যাঙ্কে। লুকিয়ে…”

গুহ্যদ্বারপ্রান্তের আরামটুকুতে ক্রমে আসিল নিদ্রা। আমি ঘুমাইলাম।

 

৫।

“সারাদিন কেটেযায় কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে”। - যদিও অন্যত্র, অসীমা তখন, তথাপি গতরাত্রির উরুমূলের সিক্ততা, যে সিক্ততা আদতে ঘ্রাণ, যে ঘ্রাণের প্রতি পরমাণু গহনে বাষ্প – সেই বাষ্পে পাহাড়িয়া শহরটি অদ্য আকূল। রাত্রে, ঘুমের গহনে যে বৃষ্টি নামিয়াছিল, তাহারি হাল্কা  মেঘমেখলায় সূর্যের বীর্য ততোদূর ম্লান যতোদূর ম্লান হইলে ঘাসশিশুর, ঘাসযুবতীর দেহের শিশির, হয়না, অনেক বেলা অবধি, বাষ্পীভূত।

 

সিক্ত প্রতি শিশিরবিন্দুতেও সেই ঘ্রাণ। পাইনের পাতায় পাতায় সেই ঘ্রাণ। ঝোপেঝাড়ে, পাহাড়ের খাদে, টিলায়, গীর্জাশীর্ষে, মন্দিরগম্বুজে, মশজিদশিখরে দেই ঘ্রাণ। নির্জন পথের অঙ্গে অঙ্গে সেই ঘ্রাণ। ভিড়ে ভরা ‘বুচার স্ট্রীট’এ’ও সেই ঘ্রাণ।

পাহাড়িয়া প্রতিটি রমণীর দেহে সেই ঘ্রাণ। সেই ঘ্রাণ – যা রাত্রির – যে রাত্রি প্রতিমানুষের অন্দরের রাত্রি – যে রাত্রি ‘রাত’, যে ‘রাত’ – ‘রতি’ – ‘তীর’ – কিউপিডের, মদনের –তীরবিদ্ধ, শরবিদ্ধ।

শরশয্যা, মূলতঃ, প্রতি রতিশয্যাই। রক্তাক্ত অথচ উল্লসিত।

উল্লসিত – যদিও সর্বজনবিদিত, যে, এই উল্লাস ক্ষণস্থায়ী।

নয়, ক্ষণস্থায়ী, কোন উল্লাস? কোন্‌ বেদনা?

পাহাড়িয়া শহরের পথে পথে শীতবাতাসের বর্শায় শীৎকার।

আমার দেহমন্দিরের সেই দুয়ার, যাহাকে মুনীঋষিরা ‘গুহ্যদ্বার’ বাত্লাইয়া থাকেন, তাহাতে নখাগ্র স্থাপনদ্বারা যে আরামটুকু দিতেছিল অসীমা তাহাতে আমার ঘুম আসিয়াছিল। গতরাত্রে। ঘুম ভাঙ্গিয়াওছিল। মধ্যরাত্রে। বৃষ্টিশব্দে। টিনের চালায় বৃষ্টির প্রতিটি বিন্দু, আদতে, চাহিতেছিল প্রবেশিতে সেই কৃষ্ণগুহাভ্যন্তরে যা অসীমার। কিন্তু টিনের চালা বাধা দিতেছিল। ফলতঃ মুহুর্মুহু তাহাদের কাম ক্রোধে রূপান্তরিত। মুহুর্মুহু আক্রমণ প্রবলতর। হাওয়ার হাহাকারে শরীরে কাঁটাদিলে শরীর সেঁকিয়া লইতে মুখ রাখিয়াছিলাম অসীমার উরুপ্রান্তে আর তখনই অসীমার গুহাভ্যন্তর হইতে উঠিল সেই ওম্‌, সেই  ঘ্রাণ – যে ওম্‌, যে ঘ্রাণ এমনই বাদ্‌লার রাত্রে পিতামহীর কিনারে – তেপান্তরের, ভুশন্ডীর মাঠের কাহনে। অসীমার গুহাভ্যন্তর হইতে উঠিল সেই ওম্‌, সেই  ঘ্রাণ – যে ওম্‌, যে ঘ্রাণ সদ্য সতীচ্ছদচ্ছিন্ন তরুণীর অস্তিত্বের আনাচেকানাচে ... যে ওম্‌ আদতে ওম্‌কার।

             স্থির হইল দিনটি, অসীমা, যথারীতি ‘কাজ’এ যাইবে। দিবালোকে আমারও ‘কাজ’ কিছু সাড়িয়া লইব। সন্ধ্যায় দাঁড়াইব তাহার ‘কাজ’স্থান নিকটবর্তী বাসস্টপে। সে আসিবে। আমরা যাইব। বিচ্ছেদমুহুর্তে, তাহার বারান্দায় দাঁড়াইয়া চুমু খাইলাম। তাহার নবনীনির্মীত অঙ্গুলী আমার শিবস্থান, জিন্‌ প্যান্টের ভিতরে গিয়া, আঁকড়াইয়া ধরিল। সে মুখে বলিলঃ “আসবেতো? ঠিক আসবে তো?”

             না আসিয়া যাইবই কোথায়? অসিমা তখন পেন্টিহীন স্কার্ট আর ব্রাহীন টপ্‌শোভিতা। খোলা চুল। তাহার অংকুরে আঙ্গুল দিয়া সিক্ততাটুকু জিভে দিয়া টিলা বাহিয়া নামিতে নামিতে, নামিতে নামিতে বারান্দার খুঁটিতে হেলান দেওয়া যে অসীমাকে দেখিলাম , সে এক বিষাদপ্রতিমা। - হয়তো ইহাও ছল, তাহার বৃত্তিরই শিক্ষা, হাগাকমোডট্যাংকে দেবতা রাখার মতনই, তথাপি সেই মুহুর্তে এই মহাবিশ্বে তাহার যেন আমি ভিন্ন আর কেহ নাই, কিছুনাই – এই ছবি তাহাই বলিল। আমিও শুনিলাম। টিলানামিয়া বাসে উঠিয়া ভাবিলাম হউক ছলনা ।  এই ছলনা একরকমের আশ্রয় বটে।

                              স্থির হইল, হায়, ঠিকই, তবে তাহার ‘কাজ’স্থান নিকটবর্তী বাসস্টপে সন্ধ্যা আসিল। কিন্তু অসীমা আসিলনা। অসীমার অন্তর্গত সেই ঘ্রাণ ততক্ষণে জমাট। সূচীভেদ্য। রাতবাতাসের স্পর্শ, আমার গালে, তাহার নিখুঁত কামানো রতি-ত্রিকোণের অনুভব। আমার নিজস্ব অন্তর্গত তরবারি কোষমুক্ত। কিন্তু, হায়, যাহার খেলার প্রতিভা এই অসীকে সক্ষম নিরস্ত করিতে, পরাস্ত করিতে – সেই অসীচালিকা, অসীমা, কোথায়?

                                          হাজির হইলাম সেই বাণিজ্যবাসাটির সম্মুখে যাহার দোতলায় অসীমা ‘কাজ’ করে। আশ্চর্য হইয়া দেখিলাম অদ্য সেই বাসা একতলা। দেখিলাম একতলায় দোকানপাট সবই রহিয়াছে পূর্ববৎ কিন্তু দোতলাটি নাই। পাঠক, বিশ্বাস করুন, এই কাহনের প্রতিটি হরফ সত্য। পাঠক আমি দেখিলাম সেই বাসা একতলা। দেখিলাম একতলায় দোকানপাট সবই রহিয়াছে পূর্ববৎ কিন্তু দোতলাটি নাই।

একটি রোগা মতন মেয়ে মানুষ অন্ধকারে গজাইয়া উঠিয়া বলিয়া উঠিলঃ বৈঠেগা?

আমি বলিলাম “জরুর”… তাহাকে আঁকড়াইয়া ধরিলাম ফুটপাথেই কেননা তখন আমার ভয় হইতে ছিল যে অসীমাহেন এ’ও যদি এমনি সমস্ত দোতলাটি সহ, শহরটি সহ, সমস্ত কিছু সহ যায় মিলাইয়া তবে আমি, আমার শিবঠাকুর, হে মাধব! হে গোবিন্দ! কোথায় যাইব? মা তারা, দাঁড়াইবই বা কোথায়?

 

হাতে গরম ...

ওং, যোনিপদ্মে ওম